👹👹পিশাচ বউ 👹👹
👹👹 কলমে:- রুপক👹👹
🦇🦇🦇বাসর রাতেই বুঝতে পারলো রানা, তার বউটা মানুষ না। মানুষরূপী একটা পিশাচ বউ যে এমন তখন বুঝতে পারছে যখনই সে মানুষের রক্ত খেতে চাইছে। বিয়ের দিন রাতের কথা।
রানা রুমে প্রবেশ করতেই,,
--আমার মাথা কেমন জানি করছে (বউ)
-সারাদিন অনেক মানুষের ভিড় আর শব্দে এমন হইছে (রানা)
-আমার খুব পিপাসা লাগতেছে।(বউ)
-চিন্তা করো না এখনোই লেবুর সরবত এনে দিচ্ছি।
কিছুক্ষণ পর রানা এক গ্লাস সরবত নিয়ে রুমে প্রবেশ করে তার বউয়ের হাতে দিয়ে। দরজা ভাল করে বন্ধ করে দিলো। আজ যে বাসর রাত তাই। রানা বউয়ের কাছে যেতে হাতের গ্লাসটা ছুড়ে মারলো দেয়ালে।
রানা অবাক হয়ে গেলো নতুন বউ তা আবার বাসর রাতে এমন আচরণ।
-কি সমস্যা এটা কেনো করলা। (রানা)
- আমার পিপাসা লাগছে রক্ত খাওয়ার, মাথা ঘুরছে রক্তের নেশায়। আর তুই,,,, (বউ)
- মানে কি রিপা? তুমি কি বলছো। (রানা)
- আমি রক্ত ছাড়া কিছু বুঝি না। এখনই রক্ত খেতে হবে। রাত অনেক হয়ে গেলো বিয়ের নাটক করতে করতে।
-তুমি মানুষ হয়ে এ গুলা কি বলছো?
-আমি রিপা নই আমি একজন রক্ত খাওয়া পিশাচ আমার রক্তই আমার জীবন।
রানা অবাক হয়ে গেলো। কি করবে বুঝতে পারছে না। বউয়ের কি মাথায় সমস্যা আছে নাকি আবার। রানা নিজেকে সমালে
-দেখো, এখন ঘুমাও অনেক ক্লান্ত তুমি। (রানা)
-আমি ক্লান্ত?
বলেই, রানার গলা টিপে ধরলো রিপা। রানা নিজেকে অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে নিলো।
-কি সমস্যা তোমার? (রানা)
- আমার রক্ত চাই।
রিপা রক্ত চাই বলতে বলতে তার চেহারাটা একটা ভয়ংকর রুপ নিলো। রিপার চোখ দুটো দিয়ে মনে হচ্ছে রক্ত বের হবে হবে, অবস্থা।
রানা এই সব কিছু দেখে পুরো শরীর দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে।
-আসলে তুমি কে? বলো আমায় (রানা)
-আমি হলাম একটা রক্ত খাওয়া পিচাশ। আমার রক্ত ছাড়া কোন কিছুর দরকার নাই। বিয়ের সময় রিপাকে মেরে তার রক্ত খেয়ে। লাশটা বাড়ির পিছনে ফেলে দিছি। আর আমি যখন বুঝলাম রিপা বউ সাজতেছে। তখন আরো বুদ্ধি এলো লুকিয়ে মানুষের রক্ত খেয়ে থাকার চেয়ে কারো বউ হলে আর সন্দেহ করবে না। তাই বউ হয়ে এলাম।(রিপা)
- আমি সবাই ডাক দিচ্ছি।
-বেশি কথা বললে এখনই রিপা লাশ ঘরে রেখে যাবো আর তুই জেলে যাবি।
রানা ভাবলো সত্যিই, কি করবে এখন আর একটা পিচাশের সাথে একসাথে থাকাও যাবে না।
-আমাকে তুমি মুক্তি দাও (রানা)
-মরার আগ পর্যন্ত তোমার মুক্তি নাই। আমাকে নিয়েই থাকতে হবে তা না হলে পরিবারের মা, বাপ সবাইকে মেরে ফেলবো। আর তোমাকেও।(রিপা)
-আচ্ছা যা খুশী করো আমি ঘুমাই।
রানা শুয়ে পরলো। আর ভাবছে যা হবে কপালের দোষেই। রিপাকে ঘুমাতে বললে সে বলে আরো পরে ঘুমাবে। রানা ঘুমিয়ে গেলো। রাত হয়ে গেলোলো প্রায় ১টা।
গভীর ঘুমে আছে রানা। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখলো রিপা তার পাশেই ঘুমিয়ে আছে। রানা রিপার মাথা হাত দিয়ে দেখে চুল ভেজা মনে হয় কিছুক্ষণ আগে গোসল করে আসছে। রানা ভাবছে তাহলে গত কালের সব কি স্বপ্ন। দূর এই সব ভেবে কি হবে।
রানা শুয়ে দেখছে রিপার ঘুমন্ত মুখ। হঠাৎ রিপা চোখ মেলে,,, গোসল করে আসছেন।
-না গোসল কেনো করবো। (রান)
-বাসর রাত ছিল গতরাতে আর বুঝেন না। (রিপা)
রানা উঠে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে রিপার সাথে বসে নাস্তা করে। অফিসে চলে গেলো।
সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো ৯টা। রিপা আর রানা বসে রাতের খাবার খেয়ে নিলো। রানা যখনই টিভিটা অন করলো। দেখে খবরে দেখাচ্ছে আজ সকালে ২টা লাশ পাওয়া গেছে। রানা যখনই বিস্তারিত দেখছে,, রিপা এসে টিভি বন্ধ করে দিলো।
-কি দেখো? ( রিপা)
- খবরে লাশের কথা বলছে তা (রানা)
- আরে এগুলা দেখার কি আছে। আমি নিজেই করছি।
- কি বলছো?
- গতকালকে কি বললাম, আমি রিপা না আমি পিচাশ।
রানার এখন সব ঘোর কাটলো। তাহলে গতকালের সবই ছিলো সত্য।
- কি করে তুমি মারবে ভয়ে ভয়ে বলে রানা।
- তোমাকে মেরে দেখাবো, বলে অট্টহাসি দিলো রিপা।
- কি করছো বলো ( রানা)
- গতকাল রাতে আমি ঘর থেকে বের হলাম। রক্তের নেশা মাথায় নিয়ে ঘুরছি। বাড়ি থেকে কিছু দূর যেতে দেখলাম একটা মহিলা বাচ্চা কোলে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে। আমি তাদের সামনে দাড়াতেই ভয় পেয়ে গেলো। আমি মহিলাটার কোল থেকে বাচ্চা একটানে নিয়ে কল্লা ছিড়ে রক্ত খেতে লাগলাম। মহিলা একটা চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেলো। বাচ্চার রক্ত খেয়েও আমার পিপাসা মেটেনি তাই আর দুরে যাওয়ার কি দরকার মহিলাটার ও রক্ত খেয়ে নিলাম।
- রিপা,তুমি খুনী। (রানা)
- আমি খুনী না রক্ত খাওয়াই আমার কাজ। এখন তোমায় খাবো। (রিপা)
- কি বললে (রানা)
আমি তোমার রক্ত খাবো এখন। (রিপা)
- আমি তোমার স্বামী আর তুমি আমার সাথে ফাজলামো করো, ভয়ে ভয়ে ( রানা)
- থাক,তোমার রক্ত খাবো না।
- যাও আমাকে চা এনে দাও।
-কি কইলি, আমি চা দিবো তোকে।
- হ্যাঁ,তুমি বউ আর কে দিবো।
- আমি তোর বউ না, আর আমাকে কোন বাধা দিতে আসলে পুরো বংশ তোর সব মেরে ফেলবো। (রিপা)
- তোমার যা ইচ্ছা করো, আমি বাধা দেওয়ার কে। ( রানা)
রিপা চুপ করে আছে। আর রানাও ভাবছে এই পিশাচ কি করে দূর করা যায়। তার সাথে তো আর সংসার করা যায় না। রিপা রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো। কিছুক্ষণ পর রানাও শুয়ে পরলো। মাঝ রাত হয়ে গেলো হঠাৎ রানা চোখ মেলে দেখে রিপা পাশে নাই। রানা ভয় পেয়ে গেলো আজও যদি মেরে রক্ত খেয়ে নেয়।
রানা ভাবছে আমিও দেখবো আজকে কি করে রক্ত খায় মানুষের। রানাও চললো রিপাকে খুঁজতে।
রিপা ঘরে থেকে বের হয়ে হাটছে, চারদিকে তাকিয়ে শুধু মানুষ খুঁজতেছে একটু রক্ত খাবে বলে। চারদিকে দমকা হাওয়া বইছে। রিপা রক্ত মাখা ভয়ংকর রুপ নিয়ে চলছে রক্তের নেশায়। প্রায় ১ঘন্টা হাটার পরও কোন মানুষকে পেলো না রক্ত খেতে। রিপা হাটতে হাটতে একটা বাড়ির ভিতর গেলো। রাত তখন ১টা বেজে গেছে। বাড়ির ভিতর গিয়ে দরজা নক করলো। মাঝ বয়সী একটা ছেলে দরজা খুলে দিলো।
-কাকে চাই? (ছেলে)
-বাড়িতে কে আছে? (রিপা)
-আমিই বাড়িতে একা সবাই শহরের বাহিরে গ্রামের বাড়িতে।
-আমাকে একটু আশ্রয় দিবে শুধু রাতটুকু।
ছেলেটা ভাবলো যাক শিকার নিজেই যখন খাবার হতে চায়। তাহলে খাবারটা খাওয়া ভালোই। মেয়েটার বয়সও কম চলবে রাতটুকু।
-নিশ্চয় দেবো কেনো নয়।
-আচ্ছা, ভিতরে আসি।
-আসেন।
রিপাকে ভিতরে নিয়ে ছেলেটা ভালো করে দরজা লাগিয়ে দিলো যাতে বের হতে না পারে কিছু করার সময়।
রিপা ভিতরের রুমে যেতেই ছেলেটা রিপাকে ধরলো কিছু করবে বলে। আর রিপা মনে মনে ভাবছে ভালোই রক্ত হবে দেহে।
যখনই ছেলেটা রিপাকে জড়িয়ে ধরলো। রিপাও তার ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দিলো। এবার ছেলেটা রিপাকে ছাড়তে চাইছে তারপর পারছে না। রিপা ছেলেটার পুরো রক্ত খেয়ে নেওয়া ছেলেটা মারা গেলো। রিপারও রক্ত খাওয়ার নেশা গেলো। কারন যা দরকার ছিলো ছেলের দেহেই এত রক্তত পেয়ে গেছে।
এদিকে রানাও বের হয়ে হাটছে রাস্তায় রিপার খুঁজে।
রানা অনেক খুঁজেও রিপাকে আর পায় না। রানা গভীর রাত আর অন্ধকারের ভিতর দিয়ে ভয়ে ভয়ে হাটছে। একটাই ভাবনা, কাউকে বাঁচানো যায় কিনা। হাটতে হাটতে রানা আসলো একটু লোকালয়হীন জায়গার দিকে। তখনই একটা পুরুষের কন্ঠ শুনতে পেলো রানা। রানা থমকে দাঁড়ালো।
-কে ওখানে? (রানা)
-আমি কে তা জানার কি দরকার (পুরুষ কন্ঠে)
- মানে আমার খুব ভয় করছে। কে আপনি?
-তা জানা দরকার। এখনই ঘরে ফিরে যা। শহরের পিশাচী তোকে না হয় আবার মেরে ফেলবে।পুরো শহর শেষ করে দিবে। পালা এখনই।
-আমি বুঝলাম না, আপনি কে।ভয়ে ভয়ে বললো রানা।
রানার ভয়ে পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছে। অন্ধকারে আবার কিছু দেখাও যাচ্ছে না। রানা এগিয়ে গেলো একটু তখনই দেখলো বিশাল আকৃতিসদৃশ্য একটা সাদা পোশাকে লোক। রানা কি করবে বুঝতে পারছে না।
রানা চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেলো।
চোখ মেলে দেখে রানা চারদিকে সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। রানা উঠে হেটে বাসায় ফিরছে আর ভাবছে গতরাতের মানুষটাকে আবার তাকে সাবধান করলো। রানা ভাবতে ভাবতে বাসায় ফিরে এলো এসে দেখে রিপা এখনো ঘুমাচ্ছে। তাকে ডেকে দিয়ে।
-রাতে কোথায় গিয়ে ছিলা বলো? (রানা)
-কই আমি ঘরেই ছিলাম। (রিপা)
রানা রাগে একটা চড় বসিয়ে দিলো রিপাকে। রিপা কিছু না বলে চুপ করে আছে। রানা ভাবছে কোন পরিবর্তন নাই কেনো। রানা রাগের মাথায় আরো কত কি বলে চলে গেলো অফিসে। আজকে আর তার কোন কিছুতেই মন বসছে না। গত রাতের লোকটার কথা মনে পরছে বারবার। পিশাচী শহর শেষ করে দিবে।
রানা ভাবছে না, রিপাই সেই পিশাচী এর কিছু করা দরকার।
রানা আজকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসলো। কারন বাড়িতে রিপা আজ একাই। যদি আবার কিছু করে তাই রানা বাসায় চলে আসলো। আসার সময় আবার বাজার করে আনছে। বাসায় ফিরেই রিপাকে বললো সব কিছু ভাল করে রান্না করতে। রিপা পিশাচ হলেও সব কিছু আবার করে স্বাভাবিক মানুষের মতোই।
রানা বাজার দিয়ে ফ্রেশ হয়ে বসলো টিভি দেখতে। দেখতে পেলো একটা যুবকের ঘাড়ে কোন জানোয়ার রক্ত খেয়ে মেরে ফেলছে। রানারও বুঝতে বাকি রইলো না এটা রিপা করছে।
রানা ভাল করে দেখলো লাশের খবরটা। ছেলেটার দেহে নকের আঁচড় আর কামড়ের দাগ গুলো। রানা ভেবে পাচ্ছে না এই রিপাকে কি করে শেষ করবে।
রানা টিভির রুম থেকে বের হয়ে দেখতে গেলো রিপা কি করছে। যখনই রান্না ঘরে গেলো। দেখে থমকে গেলো সে। বাজার থেকে আনা গরুর মাংস রিপা কাচা চিবিয়ে খাচ্ছে। রানাকে দেখে রিপা খাওয়া বন্ধ করে দিলো।
রানা কিছু বলতে যাবে তখনই রিপার ভয়ংকর রুপ নিয়ে বলে,,,,,
রিপা ভয়ংকর রুপ নিয়ে বলে,আমার কোন কিছুতে বাধা দিতে এসো না। রানাও কিছু না বলে চুপ করে আছে। রিপা রান্না শেষ করে এসে দেখে রানা ঘুমিয়ে গেছে। রিপা তার মতো করে শুয়ে পরলো। রাত প্রায় ১২টা রিপা বের হলো তার শিকার করতে। বাসা থেকে বের হয়েই দেখলো একজন মাঝ বয়সী নারী আসছে।
রিপাও রক্ত নেশায় আছে রিপা একটু সামনে গিয়ে দেখে এটা রানার মা'ই। রিপাকে দেখে,,
-কোথায় যাও এতো রাত বউমা?
-কোথাও না। (রিপা)
-তাহলে বাহিরে কেনো?
- কিছু না।
রিপা ভাবছে এ যদি বলে দেয় সবার কাছে তাহলে জেনে যেতে পারে।
- এত রাত বাড়ি আসলেন যে (রিপা)
-গাড়ি সমস্যা ছিলো আর গ্রামে মোবাইল নেট সমস্যা তাই বলতে পারি নাই (শাশুড়ি।
- রিপা যাক কেউ বুঝবে না।
রিপা তার শাশুড়ির উপর ঝাপিয়ে পরলো। আর রক্ত খেতে শুরু করলো। রক্ত নেশা রিপার আসলে অনেক শক্তি হয়ে যায় তার। রক্ত খাওয়া হলেই শাশুড়ি মারা যায়।
রিপা লাশটা ফেলে চললো আরো রক্ত খেতে।।রানার ঘুম ভেঙে গেলে। দেখে রিপা ঘরে নাই। সে বুঝতে পারলো রিপা বের হয়ে গেছে রক্ত খেতে। রানা উঠে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরলো।
রিপা চললো আরো রক্ত খেতে। রাত প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে রিপা আরো দুটা মানুষের রক্ত খেয়ে বাসায় ফিরলো। রিপা এসে ঘুমিয়ে পরলো।
সকাল হতেই রানা ঘুম ভাঙলে নাস্তা করে অফিসে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হতেই দেখে অনেক মানুষের ভিড়। রানাও আগ্রহ নিয়ে দেখে অবাক। তার মায়ের লাশ পরে আছে। রানা একটা চিৎকার দিলো। রানা বলে,,,মা আমার দোষে তোমার জীবন গেলো। আমি ওর একট। কিছু করবো। সবাই কিছুই বুঝলো না রানার কথা।
রানা মাকে মাটিও দেওয়া হয়ে গেলো বাড়ি নেমে আসলো দুঃখের ছায়া। রানা ভাবছে এবার এই পিশাচীকে শেষ করতে হবে তা না হলে আরো ছেলের মায়ের জীবন নিবে।
সারাদিন কেটে গেলো রানা। বাড়ি থেকে বের হয়ে হতাশ মনে হাটছে। শহরের পাশেই একটা গির্জা আছে ওদিকের পরিবেশও অনেক নিরব। রানা হাটতে হাটতে সে দিকেই গেলো। রানা একটু দুর থেকে দেখতে পেলো কবরের পাশে বিশাল আকৃতিক একজন দাড়িয়ে আছে। রানার মনে পরলো দুদিন আগেই একেই দেখছে। রানা দৌড়ে গিয়ে কাছে যেতেই উদাও।
চারদিকে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলো না রানা । রানা কবরস্থান থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ডাক দিলো গির্জার পাদরী।
রানা তার কাছে গেলো।
-এখানে কাকে চাই মাই সন (ফাদার)
- এমনি এদিকে আসা। আর একটা কথা বলবেন ফাদার? (রানা)
-বলো
-একটা বিশাল আকৃতি দেহের মানুষ এখানের কে?
- তুমি কি ওকে দেখতে পেয়েছো?
-হুম ফাদার।
-ওনি কাউকে বিপদে পরতে দেখলেই কিছু উপকারের জন্য দেখা দেয়। আজ থেকে ৮০০বছর আগে এই গির্জার পাদরী ছিলেন।
-বুঝতে পারছি।
-তোমার কি বিপদ বলো। আমি সাহায্য করবো।
-না, লাগবে না।
-এমন কোন বড় বিপদ যে ওনি তোমায় দেখা দিলো বলো আমি সমাধান করে দিবো।
রানা রিপার পিশাচী সব কিছুই বললো পাদরীকে। পাদরী শুনে অবাক। বিশ্বাস করতে পারছে না।
-ফাদার কি করবো? (রানা)
- আমার কাছে একটা সমাধান আছে। তার বলো পিশাচী যার রুপ নিয়ে আছে সে কোথায়?(ফাদার)
- তাকে মেরে ফেলছে।
-মরা লাশটা কোথায় সেটা বলছি। ওই রুপ পরিবর্তন করে অন্য কারো রুপ নেওয়ার আগেই শেষ করতে হবে।
- তাকে নাকি মেরে বাড়ির পিছনে পেলে দিছে।
- ওই লাশটা বের করার পর সব করা যাবে।
-তাহলে আজকেই।
-আচ্ছা একটু সন্ধ্যা হউক তারপর।
সন্ধ্যা হতে রানা আর পাদরী চলে আসলো শহরে। রানা পাদরীকে নিয়ে গেলো রিপাদের বাড়ির পিছনে। রানা আবার রিপাকে বলে দেয় সে বাসায় ফিরতে রাত অনেক হবে।
রানা আর পাদরী খুঁজতে থাকে রিপার কবর। একটু নতুন মাটি দেখে রানা বলে ফাদার এটাই হবে রিপার কবর।
ফাদার বলে,, লাশ হলেলে তুলে নাও। মুখ বেধে গন্ধ হয়ে গেছে হয়তো পচে।
রানা কবর খুঁড়ে রিপার লাশ পেলো। রিপার লাশ অনেকটা পুড়ে গেছে।
লাশটা ফাদারের কাছে আনলো। ফাদার তার ব্যাগ থেকে বাইবেল বের করে। কি সব পড়ে লাশের উপর পানি ছিটিয়ে দিলো।
-তাড়াতাড়ি কেরোসিন আনো।
রানা কাছের দোকান থেকে কেরোসিন নিয়ে আসলো। ফাদার বলে রিপার লাশের উপর ছিটিয়ে দিতে রানা তা করলো।
ফাদার বলে আগুন লাগিয়েয়ে দিতে রিপার লাশে।
-আমরা মুসলিম আগুন দেওয়া ঠিক হবে না (রানা)
-এই শহর পিশাচীর হাতত থেকে বাচাতে হলে আগুন দিতেই হবে।
রানা তারপর আগুন লাগিয়েয়ে দিলো রিপার লাশে। রিপার লাশ পুড়ে চাই।
-পিশাচী শেষ যেখানেই থাকুক।(ফাদার)
-এখন আর কি করবো? (রান)
- যেখানে পিশশাচী ওখানে যেতে হবে।
রানা ফাদারকে নিয়ে চলে আসলো বাসায় এসেসে দেখে মেঝেতে একটা ছাইয়ের বস্তার মতো হয়েয়ে পুড়ে আছে পিশাচী।
-এই ছাই গুলো বস্তা করে নদীতে ফেলে দাও। তা না হলে এটা থেকে পিশাচীর আত্মা জন্ম নেবে আবার।
ফাদার চলে গেলো। রানা পিশাচী বউয়ের ছাই গুলো বস্তা করে নিয়ে নদীতে ফেলে চলে আসলো। রানা কান্না করছে আর বাসায় ফিরছে পিশাচ বউয়ের জন্য।
সমাপ্ত
🦇🦇🦇বাসর রাতেই বুঝতে পারলো রানা, তার বউটা মানুষ না। মানুষরূপী একটা পিশাচ বউ যে এমন তখন বুঝতে পারছে যখনই সে মানুষের রক্ত খেতে চাইছে। বিয়ের দিন রাতের কথা।
রানা রুমে প্রবেশ করতেই,,
--আমার মাথা কেমন জানি করছে (বউ)
-সারাদিন অনেক মানুষের ভিড় আর শব্দে এমন হইছে (রানা)
-আমার খুব পিপাসা লাগতেছে।(বউ)
-চিন্তা করো না এখনোই লেবুর সরবত এনে দিচ্ছি।
কিছুক্ষণ পর রানা এক গ্লাস সরবত নিয়ে রুমে প্রবেশ করে তার বউয়ের হাতে দিয়ে। দরজা ভাল করে বন্ধ করে দিলো। আজ যে বাসর রাত তাই। রানা বউয়ের কাছে যেতে হাতের গ্লাসটা ছুড়ে মারলো দেয়ালে।
রানা অবাক হয়ে গেলো নতুন বউ তা আবার বাসর রাতে এমন আচরণ।
-কি সমস্যা এটা কেনো করলা। (রানা)
- আমার পিপাসা লাগছে রক্ত খাওয়ার, মাথা ঘুরছে রক্তের নেশায়। আর তুই,,,, (বউ)
- মানে কি রিপা? তুমি কি বলছো। (রানা)
- আমি রক্ত ছাড়া কিছু বুঝি না। এখনই রক্ত খেতে হবে। রাত অনেক হয়ে গেলো বিয়ের নাটক করতে করতে।
-তুমি মানুষ হয়ে এ গুলা কি বলছো?
-আমি রিপা নই আমি একজন রক্ত খাওয়া পিশাচ আমার রক্তই আমার জীবন।
রানা অবাক হয়ে গেলো। কি করবে বুঝতে পারছে না। বউয়ের কি মাথায় সমস্যা আছে নাকি আবার। রানা নিজেকে সমালে
-দেখো, এখন ঘুমাও অনেক ক্লান্ত তুমি। (রানা)
-আমি ক্লান্ত?
বলেই, রানার গলা টিপে ধরলো রিপা। রানা নিজেকে অনেক কষ্টে ছাড়িয়ে নিলো।
-কি সমস্যা তোমার? (রানা)
- আমার রক্ত চাই।
রিপা রক্ত চাই বলতে বলতে তার চেহারাটা একটা ভয়ংকর রুপ নিলো। রিপার চোখ দুটো দিয়ে মনে হচ্ছে রক্ত বের হবে হবে, অবস্থা।
রানা এই সব কিছু দেখে পুরো শরীর দিয়ে ঘাম বের হচ্ছে।
-আসলে তুমি কে? বলো আমায় (রানা)
-আমি হলাম একটা রক্ত খাওয়া পিচাশ। আমার রক্ত ছাড়া কোন কিছুর দরকার নাই। বিয়ের সময় রিপাকে মেরে তার রক্ত খেয়ে। লাশটা বাড়ির পিছনে ফেলে দিছি। আর আমি যখন বুঝলাম রিপা বউ সাজতেছে। তখন আরো বুদ্ধি এলো লুকিয়ে মানুষের রক্ত খেয়ে থাকার চেয়ে কারো বউ হলে আর সন্দেহ করবে না। তাই বউ হয়ে এলাম।(রিপা)
- আমি সবাই ডাক দিচ্ছি।
-বেশি কথা বললে এখনই রিপা লাশ ঘরে রেখে যাবো আর তুই জেলে যাবি।
রানা ভাবলো সত্যিই, কি করবে এখন আর একটা পিচাশের সাথে একসাথে থাকাও যাবে না।
-আমাকে তুমি মুক্তি দাও (রানা)
-মরার আগ পর্যন্ত তোমার মুক্তি নাই। আমাকে নিয়েই থাকতে হবে তা না হলে পরিবারের মা, বাপ সবাইকে মেরে ফেলবো। আর তোমাকেও।(রিপা)
-আচ্ছা যা খুশী করো আমি ঘুমাই।
রানা শুয়ে পরলো। আর ভাবছে যা হবে কপালের দোষেই। রিপাকে ঘুমাতে বললে সে বলে আরো পরে ঘুমাবে। রানা ঘুমিয়ে গেলো। রাত হয়ে গেলোলো প্রায় ১টা।
গভীর ঘুমে আছে রানা। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখলো রিপা তার পাশেই ঘুমিয়ে আছে। রানা রিপার মাথা হাত দিয়ে দেখে চুল ভেজা মনে হয় কিছুক্ষণ আগে গোসল করে আসছে। রানা ভাবছে তাহলে গত কালের সব কি স্বপ্ন। দূর এই সব ভেবে কি হবে।
রানা শুয়ে দেখছে রিপার ঘুমন্ত মুখ। হঠাৎ রিপা চোখ মেলে,,, গোসল করে আসছেন।
-না গোসল কেনো করবো। (রান)
-বাসর রাত ছিল গতরাতে আর বুঝেন না। (রিপা)
রানা উঠে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে রিপার সাথে বসে নাস্তা করে। অফিসে চলে গেলো।
সারাদিন কাজ শেষে বাসায় ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেলো ৯টা। রিপা আর রানা বসে রাতের খাবার খেয়ে নিলো। রানা যখনই টিভিটা অন করলো। দেখে খবরে দেখাচ্ছে আজ সকালে ২টা লাশ পাওয়া গেছে। রানা যখনই বিস্তারিত দেখছে,, রিপা এসে টিভি বন্ধ করে দিলো।
-কি দেখো? ( রিপা)
- খবরে লাশের কথা বলছে তা (রানা)
- আরে এগুলা দেখার কি আছে। আমি নিজেই করছি।
- কি বলছো?
- গতকালকে কি বললাম, আমি রিপা না আমি পিচাশ।
রানার এখন সব ঘোর কাটলো। তাহলে গতকালের সবই ছিলো সত্য।
- কি করে তুমি মারবে ভয়ে ভয়ে বলে রানা।
- তোমাকে মেরে দেখাবো, বলে অট্টহাসি দিলো রিপা।
- কি করছো বলো ( রানা)
- গতকাল রাতে আমি ঘর থেকে বের হলাম। রক্তের নেশা মাথায় নিয়ে ঘুরছি। বাড়ি থেকে কিছু দূর যেতে দেখলাম একটা মহিলা বাচ্চা কোলে নিয়ে কোথায় যাচ্ছে। আমি তাদের সামনে দাড়াতেই ভয় পেয়ে গেলো। আমি মহিলাটার কোল থেকে বাচ্চা একটানে নিয়ে কল্লা ছিড়ে রক্ত খেতে লাগলাম। মহিলা একটা চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেলো। বাচ্চার রক্ত খেয়েও আমার পিপাসা মেটেনি তাই আর দুরে যাওয়ার কি দরকার মহিলাটার ও রক্ত খেয়ে নিলাম।
- রিপা,তুমি খুনী। (রানা)
- আমি খুনী না রক্ত খাওয়াই আমার কাজ। এখন তোমায় খাবো। (রিপা)
- কি বললে (রানা)
আমি তোমার রক্ত খাবো এখন। (রিপা)
- আমি তোমার স্বামী আর তুমি আমার সাথে ফাজলামো করো, ভয়ে ভয়ে ( রানা)
- থাক,তোমার রক্ত খাবো না।
- যাও আমাকে চা এনে দাও।
-কি কইলি, আমি চা দিবো তোকে।
- হ্যাঁ,তুমি বউ আর কে দিবো।
- আমি তোর বউ না, আর আমাকে কোন বাধা দিতে আসলে পুরো বংশ তোর সব মেরে ফেলবো। (রিপা)
- তোমার যা ইচ্ছা করো, আমি বাধা দেওয়ার কে। ( রানা)
রিপা চুপ করে আছে। আর রানাও ভাবছে এই পিশাচ কি করে দূর করা যায়। তার সাথে তো আর সংসার করা যায় না। রিপা রুমে গিয়ে শুয়ে পরলো। কিছুক্ষণ পর রানাও শুয়ে পরলো। মাঝ রাত হয়ে গেলো হঠাৎ রানা চোখ মেলে দেখে রিপা পাশে নাই। রানা ভয় পেয়ে গেলো আজও যদি মেরে রক্ত খেয়ে নেয়।
রানা ভাবছে আমিও দেখবো আজকে কি করে রক্ত খায় মানুষের। রানাও চললো রিপাকে খুঁজতে।
রিপা ঘরে থেকে বের হয়ে হাটছে, চারদিকে তাকিয়ে শুধু মানুষ খুঁজতেছে একটু রক্ত খাবে বলে। চারদিকে দমকা হাওয়া বইছে। রিপা রক্ত মাখা ভয়ংকর রুপ নিয়ে চলছে রক্তের নেশায়। প্রায় ১ঘন্টা হাটার পরও কোন মানুষকে পেলো না রক্ত খেতে। রিপা হাটতে হাটতে একটা বাড়ির ভিতর গেলো। রাত তখন ১টা বেজে গেছে। বাড়ির ভিতর গিয়ে দরজা নক করলো। মাঝ বয়সী একটা ছেলে দরজা খুলে দিলো।
-কাকে চাই? (ছেলে)
-বাড়িতে কে আছে? (রিপা)
-আমিই বাড়িতে একা সবাই শহরের বাহিরে গ্রামের বাড়িতে।
-আমাকে একটু আশ্রয় দিবে শুধু রাতটুকু।
ছেলেটা ভাবলো যাক শিকার নিজেই যখন খাবার হতে চায়। তাহলে খাবারটা খাওয়া ভালোই। মেয়েটার বয়সও কম চলবে রাতটুকু।
-নিশ্চয় দেবো কেনো নয়।
-আচ্ছা, ভিতরে আসি।
-আসেন।
রিপাকে ভিতরে নিয়ে ছেলেটা ভালো করে দরজা লাগিয়ে দিলো যাতে বের হতে না পারে কিছু করার সময়।
রিপা ভিতরের রুমে যেতেই ছেলেটা রিপাকে ধরলো কিছু করবে বলে। আর রিপা মনে মনে ভাবছে ভালোই রক্ত হবে দেহে।
যখনই ছেলেটা রিপাকে জড়িয়ে ধরলো। রিপাও তার ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দিলো। এবার ছেলেটা রিপাকে ছাড়তে চাইছে তারপর পারছে না। রিপা ছেলেটার পুরো রক্ত খেয়ে নেওয়া ছেলেটা মারা গেলো। রিপারও রক্ত খাওয়ার নেশা গেলো। কারন যা দরকার ছিলো ছেলের দেহেই এত রক্তত পেয়ে গেছে।
এদিকে রানাও বের হয়ে হাটছে রাস্তায় রিপার খুঁজে।
রানা অনেক খুঁজেও রিপাকে আর পায় না। রানা গভীর রাত আর অন্ধকারের ভিতর দিয়ে ভয়ে ভয়ে হাটছে। একটাই ভাবনা, কাউকে বাঁচানো যায় কিনা। হাটতে হাটতে রানা আসলো একটু লোকালয়হীন জায়গার দিকে। তখনই একটা পুরুষের কন্ঠ শুনতে পেলো রানা। রানা থমকে দাঁড়ালো।
-কে ওখানে? (রানা)
-আমি কে তা জানার কি দরকার (পুরুষ কন্ঠে)
- মানে আমার খুব ভয় করছে। কে আপনি?
-তা জানা দরকার। এখনই ঘরে ফিরে যা। শহরের পিশাচী তোকে না হয় আবার মেরে ফেলবে।পুরো শহর শেষ করে দিবে। পালা এখনই।
-আমি বুঝলাম না, আপনি কে।ভয়ে ভয়ে বললো রানা।
রানার ভয়ে পুরো শরীর ঘেমে যাচ্ছে। অন্ধকারে আবার কিছু দেখাও যাচ্ছে না। রানা এগিয়ে গেলো একটু তখনই দেখলো বিশাল আকৃতিসদৃশ্য একটা সাদা পোশাকে লোক। রানা কি করবে বুঝতে পারছে না।
রানা চিৎকার দিয়ে মাটিতে পরে গেলো।
চোখ মেলে দেখে রানা চারদিকে সূর্যের আলোয় ঝলমল করছে। রানা উঠে হেটে বাসায় ফিরছে আর ভাবছে গতরাতের মানুষটাকে আবার তাকে সাবধান করলো। রানা ভাবতে ভাবতে বাসায় ফিরে এলো এসে দেখে রিপা এখনো ঘুমাচ্ছে। তাকে ডেকে দিয়ে।
-রাতে কোথায় গিয়ে ছিলা বলো? (রানা)
-কই আমি ঘরেই ছিলাম। (রিপা)
রানা রাগে একটা চড় বসিয়ে দিলো রিপাকে। রিপা কিছু না বলে চুপ করে আছে। রানা ভাবছে কোন পরিবর্তন নাই কেনো। রানা রাগের মাথায় আরো কত কি বলে চলে গেলো অফিসে। আজকে আর তার কোন কিছুতেই মন বসছে না। গত রাতের লোকটার কথা মনে পরছে বারবার। পিশাচী শহর শেষ করে দিবে।
রানা ভাবছে না, রিপাই সেই পিশাচী এর কিছু করা দরকার।
রানা আজকে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে আসলো। কারন বাড়িতে রিপা আজ একাই। যদি আবার কিছু করে তাই রানা বাসায় চলে আসলো। আসার সময় আবার বাজার করে আনছে। বাসায় ফিরেই রিপাকে বললো সব কিছু ভাল করে রান্না করতে। রিপা পিশাচ হলেও সব কিছু আবার করে স্বাভাবিক মানুষের মতোই।
রানা বাজার দিয়ে ফ্রেশ হয়ে বসলো টিভি দেখতে। দেখতে পেলো একটা যুবকের ঘাড়ে কোন জানোয়ার রক্ত খেয়ে মেরে ফেলছে। রানারও বুঝতে বাকি রইলো না এটা রিপা করছে।
রানা ভাল করে দেখলো লাশের খবরটা। ছেলেটার দেহে নকের আঁচড় আর কামড়ের দাগ গুলো। রানা ভেবে পাচ্ছে না এই রিপাকে কি করে শেষ করবে।
রানা টিভির রুম থেকে বের হয়ে দেখতে গেলো রিপা কি করছে। যখনই রান্না ঘরে গেলো। দেখে থমকে গেলো সে। বাজার থেকে আনা গরুর মাংস রিপা কাচা চিবিয়ে খাচ্ছে। রানাকে দেখে রিপা খাওয়া বন্ধ করে দিলো।
রানা কিছু বলতে যাবে তখনই রিপার ভয়ংকর রুপ নিয়ে বলে,,,,,
রিপা ভয়ংকর রুপ নিয়ে বলে,আমার কোন কিছুতে বাধা দিতে এসো না। রানাও কিছু না বলে চুপ করে আছে। রিপা রান্না শেষ করে এসে দেখে রানা ঘুমিয়ে গেছে। রিপা তার মতো করে শুয়ে পরলো। রাত প্রায় ১২টা রিপা বের হলো তার শিকার করতে। বাসা থেকে বের হয়েই দেখলো একজন মাঝ বয়সী নারী আসছে।
রিপাও রক্ত নেশায় আছে রিপা একটু সামনে গিয়ে দেখে এটা রানার মা'ই। রিপাকে দেখে,,
-কোথায় যাও এতো রাত বউমা?
-কোথাও না। (রিপা)
-তাহলে বাহিরে কেনো?
- কিছু না।
রিপা ভাবছে এ যদি বলে দেয় সবার কাছে তাহলে জেনে যেতে পারে।
- এত রাত বাড়ি আসলেন যে (রিপা)
-গাড়ি সমস্যা ছিলো আর গ্রামে মোবাইল নেট সমস্যা তাই বলতে পারি নাই (শাশুড়ি।
- রিপা যাক কেউ বুঝবে না।
রিপা তার শাশুড়ির উপর ঝাপিয়ে পরলো। আর রক্ত খেতে শুরু করলো। রক্ত নেশা রিপার আসলে অনেক শক্তি হয়ে যায় তার। রক্ত খাওয়া হলেই শাশুড়ি মারা যায়।
রিপা লাশটা ফেলে চললো আরো রক্ত খেতে।।রানার ঘুম ভেঙে গেলে। দেখে রিপা ঘরে নাই। সে বুঝতে পারলো রিপা বের হয়ে গেছে রক্ত খেতে। রানা উঠে খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পরলো।
রিপা চললো আরো রক্ত খেতে। রাত প্রায় শেষ হয়ে যাচ্ছে রিপা আরো দুটা মানুষের রক্ত খেয়ে বাসায় ফিরলো। রিপা এসে ঘুমিয়ে পরলো।
সকাল হতেই রানা ঘুম ভাঙলে নাস্তা করে অফিসে যাচ্ছে। বাড়ি থেকে বের হতেই দেখে অনেক মানুষের ভিড়। রানাও আগ্রহ নিয়ে দেখে অবাক। তার মায়ের লাশ পরে আছে। রানা একটা চিৎকার দিলো। রানা বলে,,,মা আমার দোষে তোমার জীবন গেলো। আমি ওর একট। কিছু করবো। সবাই কিছুই বুঝলো না রানার কথা।
রানা মাকে মাটিও দেওয়া হয়ে গেলো বাড়ি নেমে আসলো দুঃখের ছায়া। রানা ভাবছে এবার এই পিশাচীকে শেষ করতে হবে তা না হলে আরো ছেলের মায়ের জীবন নিবে।
সারাদিন কেটে গেলো রানা। বাড়ি থেকে বের হয়ে হতাশ মনে হাটছে। শহরের পাশেই একটা গির্জা আছে ওদিকের পরিবেশও অনেক নিরব। রানা হাটতে হাটতে সে দিকেই গেলো। রানা একটু দুর থেকে দেখতে পেলো কবরের পাশে বিশাল আকৃতিক একজন দাড়িয়ে আছে। রানার মনে পরলো দুদিন আগেই একেই দেখছে। রানা দৌড়ে গিয়ে কাছে যেতেই উদাও।
চারদিকে তাকিয়েও কাউকে দেখতে পেলো না রানা । রানা কবরস্থান থেকে বের হওয়ার সময় তাকে ডাক দিলো গির্জার পাদরী।
রানা তার কাছে গেলো।
-এখানে কাকে চাই মাই সন (ফাদার)
- এমনি এদিকে আসা। আর একটা কথা বলবেন ফাদার? (রানা)
-বলো
-একটা বিশাল আকৃতি দেহের মানুষ এখানের কে?
- তুমি কি ওকে দেখতে পেয়েছো?
-হুম ফাদার।
-ওনি কাউকে বিপদে পরতে দেখলেই কিছু উপকারের জন্য দেখা দেয়। আজ থেকে ৮০০বছর আগে এই গির্জার পাদরী ছিলেন।
-বুঝতে পারছি।
-তোমার কি বিপদ বলো। আমি সাহায্য করবো।
-না, লাগবে না।
-এমন কোন বড় বিপদ যে ওনি তোমায় দেখা দিলো বলো আমি সমাধান করে দিবো।
রানা রিপার পিশাচী সব কিছুই বললো পাদরীকে। পাদরী শুনে অবাক। বিশ্বাস করতে পারছে না।
-ফাদার কি করবো? (রানা)
- আমার কাছে একটা সমাধান আছে। তার বলো পিশাচী যার রুপ নিয়ে আছে সে কোথায়?(ফাদার)
- তাকে মেরে ফেলছে।
-মরা লাশটা কোথায় সেটা বলছি। ওই রুপ পরিবর্তন করে অন্য কারো রুপ নেওয়ার আগেই শেষ করতে হবে।
- তাকে নাকি মেরে বাড়ির পিছনে পেলে দিছে।
- ওই লাশটা বের করার পর সব করা যাবে।
-তাহলে আজকেই।
-আচ্ছা একটু সন্ধ্যা হউক তারপর।
সন্ধ্যা হতে রানা আর পাদরী চলে আসলো শহরে। রানা পাদরীকে নিয়ে গেলো রিপাদের বাড়ির পিছনে। রানা আবার রিপাকে বলে দেয় সে বাসায় ফিরতে রাত অনেক হবে।
রানা আর পাদরী খুঁজতে থাকে রিপার কবর। একটু নতুন মাটি দেখে রানা বলে ফাদার এটাই হবে রিপার কবর।
ফাদার বলে,, লাশ হলেলে তুলে নাও। মুখ বেধে গন্ধ হয়ে গেছে হয়তো পচে।
রানা কবর খুঁড়ে রিপার লাশ পেলো। রিপার লাশ অনেকটা পুড়ে গেছে।
লাশটা ফাদারের কাছে আনলো। ফাদার তার ব্যাগ থেকে বাইবেল বের করে। কি সব পড়ে লাশের উপর পানি ছিটিয়ে দিলো।
-তাড়াতাড়ি কেরোসিন আনো।
রানা কাছের দোকান থেকে কেরোসিন নিয়ে আসলো। ফাদার বলে রিপার লাশের উপর ছিটিয়ে দিতে রানা তা করলো।
ফাদার বলে আগুন লাগিয়েয়ে দিতে রিপার লাশে।
-আমরা মুসলিম আগুন দেওয়া ঠিক হবে না (রানা)
-এই শহর পিশাচীর হাতত থেকে বাচাতে হলে আগুন দিতেই হবে।
রানা তারপর আগুন লাগিয়েয়ে দিলো রিপার লাশে। রিপার লাশ পুড়ে চাই।
-পিশাচী শেষ যেখানেই থাকুক।(ফাদার)
-এখন আর কি করবো? (রান)
- যেখানে পিশশাচী ওখানে যেতে হবে।
রানা ফাদারকে নিয়ে চলে আসলো বাসায় এসেসে দেখে মেঝেতে একটা ছাইয়ের বস্তার মতো হয়েয়ে পুড়ে আছে পিশাচী।
-এই ছাই গুলো বস্তা করে নদীতে ফেলে দাও। তা না হলে এটা থেকে পিশাচীর আত্মা জন্ম নেবে আবার।
ফাদার চলে গেলো। রানা পিশাচী বউয়ের ছাই গুলো বস্তা করে নিয়ে নদীতে ফেলে চলে আসলো। রানা কান্না করছে আর বাসায় ফিরছে পিশাচ বউয়ের জন্য।
সমাপ্ত
إرسال تعليق